Ptv-Public TV
বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. চাকরী
  6. টপ টেন
  7. দেশজুড়ে
  8. ফিচার
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. ভিডিও
  12. সর্বশেষ

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র

প্রতিবেদক
nazmulnirob
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর বড় একটি অংশ কেন্দ্রীভূত হয়েছে কয়েকটি ব্যাংকে। ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪১২ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের। জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৯৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক, যার খেলাপি ঋণ ৭৫ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৬০ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা।

এই তিন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ শীর্ষ ১০ ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশই রয়েছে এই তিন ব্যাংকে।

ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ গত বছরের শেষেও ছিল ৯৪ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। তখন কোনো একক ব্যাংকের ইতিহাসে এটিই ছিল সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের পরিমাণ। কয়েক মাসের ব্যবধানে তা আরও বেড়ে প্রায় ৯৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

একই সময়ে ব্যাংকটির তারল্য সংকটও তীব্র হয়েছে। জুন মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েক দফায় ইসলামী ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দেয়। এক পর্যায়ে মাত্র তিন দিনে ব্যাংকটিকে মোট ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়।

শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকায় ইসলামী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পর রয়েছে এক্সিম ব্যাংক। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ৩৮ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের ৩২ হাজার ১৩৩ কোটি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ২৯ হাজার ৭৯৯ কোটি, আইএফআইসি ব্যাংকের ২৮ হাজার ৫২০ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংকের ২৮ হাজার ১৫৮ কোটি, ইউনিয়ন ব্যাংকের ২৭ হাজার ১৩৪ কোটি এবং এবি ব্যাংকের ২০ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।

পুরো ব্যাংকিং খাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জুন শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশই এখন খেলাপি। মার্চের তুলনায় মাত্র তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ কেন্দ্রীভূত হওয়ায় ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া, বড় গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং ঋণের অর্থের ব্যবহার ও আদায় ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, কারা কীভাবে ঋণ নিয়েছে, কী ধরনের জামানতের বিপরীতে ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং ঋণের অর্থ কোথায় ব্যবহার হয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি।

তার মতে, খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকলে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধনের ওপর চাপ বাড়বে। এর প্রভাব পড়তে পারে আমানতকারী, ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর।

সর্বশেষ - বাংলাদেশ